ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্টিম ইঞ্জিনিয়ারিং, সারা বাংলাদেশে নিবন্ধিত

বয়লার নির্বাচন

থার্মাল অয়েল হিটার বনাম স্টিম বয়লার: কোনটি আপনার প্রসেসে

তাপমাত্রা, চাপ, বিধিবিধান, আগুনের ঝুঁকি ও চালানোর খরচ মিলিয়ে থার্মাল ফ্লুইড হিটার ও স্টিম বয়লারের তুলনা—বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে।

এই লেখাটি এই ভাষাতেও রয়েছেEnglish

থার্মাল ফ্লুইড হিটার সার্কিট ও স্টিম বয়লার-হেডার পাশাপাশি দেখানো ধারণামূলক চিত্র

প্লাইউড কারখানা, ল্যামিনেটিং লাইন আর ডাইং হাউস—সবার চাহিদাকেই "তাপ" বলা যায়, কিন্তু যে যন্ত্র ভালো সেবা দেবে তা এক নয়। প্রসেসে ২৫০ °C বা তার বেশি লাগলে স্টিম দিয়ে তা দিতে গেলে এমন চাপে চালাতে হয়, যা বেশির ভাগ কারখানা এড়াতে চায়। আবার যেখানে পণ্যে সরাসরি স্টিম লাগে বা বড় আয়তনের পানি দ্রুত গরম করতে হয়, সেখানে থার্মাল অয়েল দিয়ে কাজই হবে না।

সিদ্ধান্তটি সাধারণত তিনটি সংখ্যায় নির্ধারিত হয়: প্রসেসে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা, স্টিম পণ্যে লাগবে কি না, এবং বছরের কত সময় যন্ত্রটি বসে থাকবে।

চাপ-তাপমাত্রার যুক্তি

১৮০ °C-এ স্যাচুরেটেড স্টিম পেতে লাগে প্রায় ১০ bar g। ২০০ °C-এ লাগে ১৫.৫ bar g। ২৫০ °C-এ লাগে প্রায় ৪০ bar g—এমন প্রেশার ভেসেল, ফিডওয়াটারের মান ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা, যা সাধারণ প্রসেস কারখানার চাহিদার তুলনায় বহু গুণ ভারী।

থার্মাল ফ্লুইড হিটার ২৫০–৩০০ °C-এ পৌঁছায় সঞ্চালনের সামান্য চাপে, সাধারণত কয়েক বার—কারণ ফ্লুইড ফুটছে না। নিচের বেশির ভাগ তুলনা এই একটি বৈশিষ্ট্য থেকেই আসে।

বিষয়স্টিম বয়লারথার্মাল অয়েল হিটার
ব্যবহারযোগ্য তাপমাত্রাবাস্তব চাপে প্রায় ১৮০–২০০ °C পর্যন্ত১৫০–৩০০ °C, কিছু ফ্লুইডে আরও বেশি
চালু অবস্থার চাপতাপমাত্রা বাড়লে চাপ দ্রুত বাড়েকম; সঞ্চালন দিয়ে নির্ধারিত, তাপমাত্রা দিয়ে নয়
প্রসেসে তাপ স্থানান্তরলেটেন্ট হিটে বেশি; এক্সচেঞ্জার ছোটশুধু সেনসিবল হিট; বড় এক্সচেঞ্জার ও বেশি প্রবাহ
পণ্যে সরাসরি সংস্পর্শকালিনারি বা পিওর স্টিমে সম্ভবসম্ভব নয়
ক্ষয় ও স্কেলের ঝুঁকিপানি শোধন, অক্সিজেন করোশন, স্কেলপানির রসায়ন থেকে স্কেল বা করোশন নেই
মেকআপ ও লসএকটানা মেকআপ পানি, ব্লোডাউনঅল্প ফ্লুইড টপ-আপ; ব্লোডাউন নেই
প্রধান বিকলতাটিউবে স্কেল, করোশন, পানির লেভেলের দুর্ঘটনাফ্লুইড নষ্ট হওয়া ও কয়েলে কোক জমা
আগুনের ঝুঁকিস্টিম ও গরম পানির দগ্ধতাগরম দাহ্য ফ্লুইড; ইনসুলেশনে লিক সত্যিকারের অগ্নিঝুঁকি
ঠান্ডা থেকে চালুবেশির ভাগ কাজে প্রথম তাপ দ্রুত আসেধীর; পুরো ফ্লুইড ইনভেন্টরি গরম করতে হয়
বিধিবিধানবয়লার আইনে নিবন্ধন, নিয়মিত OCIoB পরিদর্শনভিন্নভাবে গণ্য; নিজের ইউনিটের অবস্থান যাচাই করুন

কোনটি কোথায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে

থার্মাল অয়েল মানায় ল্যামিনেটিং ও কোটিং লাইন, প্লাইউড ও পার্টিকেল বোর্ড প্রেস, বিটুমিন ও অ্যাসফাল্ট গরম করা, ১৮০ °C-এর ওপরে নিখুঁত তাপমাত্রা লাগে এমন রাসায়নিক রিঅ্যাক্টর এবং ভোজ্যতেল প্রক্রিয়াকরণে। যেসব কারখানা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে তাদের জন্যও সুবিধাজনক, কারণ বন্ধ অবস্থায় পানির রসায়ন সামলানোর দরকার নেই, করোশনের চিন্তাও নেই।

স্টিম মানায় ডাইং ও ওয়াশিং, গার্মেন্ট ফিনিশিং ও আয়রনিং, খাদ্য রান্না ও স্টেরিলাইজেশন, হিউমিডিফিকেশন এবং যেখানে পণ্যে সরাসরি স্টিম ইনজেকশন লাগে। বড় এলাকাজুড়ে বহু রকম ইউজার থাকলেও স্টিম সুবিধাজনক, কারণ একটি হেডার দিয়ে অল্প জায়গায় শক্তি বিতরণ করা যায় এবং প্রতিটি ইউজার নিজের ট্র্যাপ স্টেশন দিয়ে যতটুকু দরকার নেয়।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল কমপ্লেক্সে মিশ্র ব্যবস্থাই সাধারণ: ডাই হাউসের জন্য স্টিম বয়লার আর স্টেনটার বা কোটিং লাইনের জন্য থার্মাল অয়েল হিটার, দুটোই একই জ্বালানিতে।

চালানোর খরচ প্রযুক্তি ঠিক করে না

দুটোই একই জ্বালানি পোড়ায়—প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, HFO, ধানের তুষ বা ব্রিকেট। কোনোটিই স্বভাবতই সস্তা নয়। বাস্তব খরচের পার্থক্য আসে চারটি জায়গা থেকে:

১. বিতরণের লস। স্টিমে নষ্ট ট্র্যাপ, ফেরত না আসা কনডেনসেট লাইনের ফ্ল্যাশ ও লিক দিয়ে শক্তি যায়। থার্মাল অয়েলে ট্র্যাপ নেই, ফ্ল্যাশিং নেই—তাই অযত্নে থাকা স্টিম প্ল্যান্টের লস অনেক বেশি। কিন্তু কনডেনসেট রিকভারিসহ ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা স্টিম প্ল্যান্ট সেই ব্যবধান প্রায় মিটিয়ে ফেলে। ২. ব্লোডাউন ও পানি শোধন। স্টিম বয়লারে একটানা ব্লোডাউন লস ও কেমিক্যালের খরচ আছে; থার্মাল অয়েলে নেই, তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্লুইড বদলানোর খরচ আছে। ৩. বসে থাকার লস। থার্মাল অয়েল ব্যবস্থায় বড় পরিমাণ গরম ফ্লুইড ধরে রাখতে হয় এবং সাধারণত সঞ্চালন চালু রাখতে হয়। দিনে এক শিফট চলা কারখানায় রাতভর ওই তাপ ধরে রাখা ব্যয়বহুল হতে পারে। ৪. পাম্পিং পাওয়ার। থার্মাল অয়েল শুধু সেনসিবল হিট বহন করে, তাই সঞ্চালনের হার ও পাম্পের বিদ্যুৎ বয়লার ফিডওয়াটার পাম্পিংয়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিদ্যুৎ, মেকআপ, কেমিক্যাল ও ফ্লুইড বদলানোসহ বছরের মোট শক্তিব্যয় তুলনা করুন—আর সেই বছরটি হতে হবে আপনার প্রকৃত শিফট প্যাটার্নের, নেমপ্লেটের ঘণ্টার নয়।

ফ্লুইড হিটারের নিজস্ব নিরাপত্তা মান আছে: নির্মাণ, কন্ট্রোল ও সুরক্ষা নিয়ে NFPA 87, আর এফিসিয়েন্সির দিকটি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের প্রসেস হিটিং রিসোর্স

যে ঝুঁকিগুলো সাইট লেআউট ঠিক করে দেয়

থার্মাল অয়েলের প্রধান বিপদ হলো ফ্লুইড লিক করে গরম পৃষ্ঠে বা ইনসুলেশনের ভেতরে ঢোকা, যেখানে মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রাতেই তা নিজে থেকে জ্বলে উঠতে পারে। যেখানে সম্ভব ফ্ল্যাঞ্জের বদলে ওয়েল্ডেড পাইপিং দিন, ফ্ল্যাঞ্জ ও ভালভে লিক শনাক্তের ব্যবস্থাসহ ধাতব জ্যাকেটের ইনসুলেশন ব্যবহার করুন, আর ফ্লুইডের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এক্সপ্যানশন ট্যাংক ঠান্ডা ও নাইট্রোজেন ব্ল্যাঙ্কেটেড রাখুন। আগুনের সাড়া ও ড্রেনেজের পরিকল্পনা কমিশনিংয়ের আগে করুন, পরে নয়।

ফ্লুইডের অবস্থা দেখাই এখানে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি। অন্তত বছরে একবার ভিসকোসিটি, ফ্ল্যাশ পয়েন্ট, অ্যাসিড নম্বর ও কার্বন রেসিডিউ পরীক্ষা করান। কার্বন রেসিডিউ বাড়ার অর্থ কোথাও ফিল্ম তাপমাত্রা বেশি—সাধারণত প্রবাহ কম বা কয়েলে ময়লা; আর কোক জমা কয়েল মানে ব্যয়বহুল মেরামত ও ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি।

স্টিমের দিকে এর সমতুল্য শৃঙ্খলা হলো পানি শোধন, TDS নিয়ন্ত্রণ ও সেফটি ইন্টারলক পরীক্ষা—যা আমাদের বিস্ফোরণ প্রতিরোধের প্রোটোকলফিডওয়াটার ট্রিটমেন্ট লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।

কোটেশন তুলনার আগে স্পেসিফিকেশন লিখুন

ব্যবহারের জায়গায় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা, চালু হওয়ার সময়সহ kW-তে তাপের চাহিদা, গ্রহণযোগ্য তাপমাত্রার হেরফের, সপ্তাহে চালানোর ঘণ্টা এবং মাধ্যমটি পণ্যে লাগবে কি না—এই পাঁচটি লাইন লিখে ফেলুন। এতে প্রতিযোগী কোটেশনগুলো তুলনাযোগ্য হয় এবং সিদ্ধান্ত শুধু যন্ত্রের দাম দেখে হয় না।

প্রত্যেক সরবরাহকারীর কাছে একই জিনিস চান: আপনার জ্বালানিতে নিশ্চিত থার্মাল এফিসিয়েন্সি ও তার ভিত্তি, সঞ্চালন পাম্পের বিদ্যুৎ, প্রত্যাশিত ফ্লুইড বা পানির খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের বিরতি এবং বাংলাদেশে ওই ইউনিটের বিধিগত অবস্থান। কেউ যদি বলেন "এতে কোনো অনুমোদন লাগে না", তা লিখিতভাবে চেয়ে নিন।

স্টিমের দিকের তুলনার জন্য দেখুন ফায়ার-টিউব বনাম ওয়াটার-টিউব নির্বাচনস্টিম বয়লার সাইজিং। নিজের প্রসেস লোড অনুযায়ী থার্মাল ফ্লুইড বা স্টিম স্থাপনার পরিধি ঠিক করতে আমাদের প্রকৌশল ডেস্কে যোগাযোগ করুন অথবা ইনস্টলেশন ও কমিশনিং সেবা দেখুন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে গ্যাস থেকে বায়োমাস বয়লার কনভার্সনের খরচ - ক্যাপেক্স, পে-ব্যাক ও ROIগাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে লো গ্যাস প্রেশার (১-৩ PSI) সামলানো

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে থার্মাল অয়েল হিটার কি বয়লার আইনের বাইরে?

থার্মাল ফ্লুইড হিটার কম চাপে চলে এবং বয়লার আইনে স্টিম বয়লারের মতো একইভাবে গণ্য হয় না, তবে এটি অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নয়। আপনার নির্দিষ্ট ইউনিটের বর্তমান অবস্থান প্রধান বয়লার পরিদর্শকের দপ্তর থেকে নিশ্চিত করে নিন; অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্গমন শর্ত যেকোনো অবস্থাতেই প্রযোজ্য।

এক কারখানায় কি দুটোই চালানো যায়?

যায়, এবং অনেকে চালায়ও। প্রচলিত ব্যবস্থা হলো ল্যামিনেটিং বা স্টেনটারের মতো উচ্চ তাপমাত্রার কাজে থার্মাল অয়েল, আর ডাইং, ওয়াশিং ও হিউমিডিফিকেশনে স্টিম বয়লার।

থার্মাল ফ্লুইড কত দিন চলে?

ফিল্ম তাপমাত্রা, অক্সিজেন ঢোকা ও চালানোর ধরনের ওপর নির্ভর করে। নিয়মিত নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করান; নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্লুইড হিটার কয়েলে কোক জমায়, আর এই ব্যবস্থার প্রধান বিকলতাই সেটি।

  • বয়লার নির্বাচন
  • শিল্প স্টিম
  • বাংলাদেশ

ব্লগ থেকে আরও